সার্থক বাক্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য কয়টি?
সার্থক বাক্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য কয়টি?
-
ক
২
-
খ
৩
-
গ
৪
-
ঘ
৫
একটি সার্থক বাক্যের গুণাবলি: ভাষার বিচারে একটি সার্থক বাক্যের নিচে তিনটি গুণ থাকা আবশ্যক।
১। আকাঙ্ক্ষা, ২। আসত্তি এবং ৩। যোগ্যতা।
আকাঙ্ক্ষা: বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা, তা-ই আকাঙ্ক্ষা। যেমন: ‘চাঁদ পৃথিবীর চারিদিকে—’ বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু শোনার ইচ্ছা হয়। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়— ‘চাঁদ পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে’। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে পূর্ণাঙ্গ বাক্য।
আসত্তি: বাক্যের অর্থসংগতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদ বিন্যাসই আসত্তি। মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। যেমন: কাল বিতরণী হবে উৎসব কলেজে আমাদের পুরষ্কার অনুষ্ঠিত। এখানে পদগুলোর সঠিকভাবে সন্নিবেশ না হওয়ায় বাক্যের অন্তনির্হিত ভাবটি যথাযথভাবে প্রকাশিত হয়নি। তাই এটিকে বাক্য বলা যায় না। এ ক্ষেত্রে পদগুলোকে নিচের যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে। কাল আমাদের কলেজে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এটি একটি আসত্তি সম্পন্ন বাক্য।
যোগ্যতা: বাক্যস্থিত পদগুলোর অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলনবন্ধনের যোগ্যতা। যেমন: বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদগুলোর অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে। কিন্তু বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে বললে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারাবে, কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।
বাক্যের মেীলিক উপাদান শব্দ হলে ও ভাষার মূল উপকরণ বাক্য। এই বাক্য সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে না পারলে বাক্য তার ভাষাগত যোগ্যতা হারায়। যার ফলস্বরুপ মনের ভাব সুস্পষ্টরুপে প্রকাশ করা সম্ভব হয় না বা আমরা যথাযথভাবে বুঝতে পারি না।ত্রুটিমুক্ত বাক্যই পারে সঠিকভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে। ভাষাগত যোগ্যতার বিচারে সঠিক বাক্য বলা বা প্রয়োগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাক্য: যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন: সজল ও লতা বই পড়ে।
সাধারণ বাক্যের প্রধান অংশ তিনটি। যথা: কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া। বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলো কর্তা। যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম। আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনো কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায়, তাকে বলে ক্রিয়া। যেমন: সজল ও লতা বই পড়ে। এখানে 'সজল ও লতা' হলো কর্তা, 'বই' হলো কর্ম এবং 'পড়ে' হলো ক্রিয়া।
বাক্যের ভিত্তি: ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন:
ক) আকাঙ্খা
২) আসত্তি
৩) যোগ্যতা
গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার।
যথা: সরল বাক্য, জটিল বাক্য ও যৌগিক বাক্য।
উদাহরণ: আমি পড়াশোনা শেষ করে খেলতে যাব। যখন আমার পড়াশোনা শেষ হবে, তখন আমি খেলতে যাব। আমি পড়াশোনা শেষ করব; তারপর খেলতে যাব।
প্রথম বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া আছে। এটি সরল বাক্য। দ্বিতীয় বাক্যের দুটি অংশ 'যখন' ও 'তখন' যোজক দ্বারা যুক্ত হয়েছে। এটি জটিল বাক্য। তৃতীয় বাক্যে 'করব' ও 'যাব' দুটি সমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে। এটি যৌগিক বাক্য।
অর্থানুসারে বাক্যর প্রকারভেদঃ
অর্থানুসারে বাক্য সাত প্রকার। যথা:
ক. বিবৃতিমূলক বা বর্ণনামূলক বা নির্দেশমূলক বাক্য। যেমন:
এখান থেকে যাও (নির্দেশাত্মক)।
আমি ভাত খাই (বিবৃতিমূলক)।
সে ঢাকা যাবে (হ্যাঁ-বাচক)।
আমি বলতে চাই না (না-বাচক)।
আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
তারা তোমাদের ভুলেনি।
খ. প্রশ্নবাচক বাক্য। যেমন:
তোমার নাম কী?
কী পড়ছ?
যাবে নাকি? কোথায় যাচ্ছ?
সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য। যেমন:
বল বীর বল উন্নত মম শির।
উঠে দাঁড়াও।
আমাকে একটি কলম দাও।
ঘ. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য। যেমন:
মহারাজের জয় হোক।
তোমার মঙ্গল হোক।
ঈশ্বর তোমাকে জয়ী করুন।
দীর্ঘজীবী হও।
পরীক্ষায় সফল হও।
তার মঙ্গল হোক।
ঙ. কার্যকারণাত্মক বাক্য। যেমন: কষ্ট না করলে কেষ্ট মিলে না।
চ. সংশয়সূচক বাক্য। যেমন: বোধ হয়, ছেলেটা চাকুরি পেয়ে যাবে।
ছ. বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য।
যেমন: হে সিন্ধু!
বন্ধু মোর-মজিনু তব রূপে!
হুররে! আমরা জিতেছি
দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
Related Question
View All-
ক
আকাঙ্ক্ষা
-
খ
অবসান
-
গ
যোগ্যতা
-
ঘ
আসত্তি
-
ক
বর্গ
-
খ
উদ্দেশ্য
-
গ
বিধেয়
-
ঘ
বাক্যাংশ
-
ক
যোগ্যতা
-
খ
আকাঙ্ক্ষা
-
গ
প্রত্যাশা
-
ঘ
আসক্তি
-
ক
উদ্দেশ্য
-
খ
বিধেয়
-
গ
বাক্যাংশ
-
ঘ
বর্ণ
-
ক
আকাঙ্খা, আসক্তি ও বিধেয়
-
খ
আকাঙ্খা, আসত্তি ও যোগ্যতা
-
গ
যোগ্যতা, উদ্দেশ্য ও বিধেয়
-
ঘ
কোনটিই নয়
-
ক
৫
-
খ
৪
-
গ
৩
-
ঘ
২
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন